১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


প্রচ্ছদ বিনোদন ছোট্ট লুবাবার অশ্রু যেন থামতেই চাইছে না!
২১ ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৪:০৫ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ,১৪:০৫

বিনোদন ডেস্ক :

অ্যাম্বুলেন্সের বিছানায় শুয়ে আছেন বরেণ্য অভিনেতা আবদুল কাদের। নাকে নল, বিভোর হয়ে ঘুমাচ্ছেন তিনি। শিয়রে বসে আছে আবদুল কাদেরের ৯ বছর বয়েসি নাতনি সিমরিন লুবাবা। প্রিয় দাদুর মাথায় হাত বুলাচ্ছে সে। তার চোখ দুটো জলে ছলছল করছে। সময় গড়াচ্ছে, গাড়ি চলছে। কিন্তু ছোট্ট লুবাবার অশ্রু যেন থামতেই চাইছে না! ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন আবদুল কাদের। ভারতের চেন্নাইয়ের ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রোববার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে চেন্নাই এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসেই ফেসবুক লাইভে আসেন সিমরিন লুবাবার মা অর্থাৎ আবদুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম। আর এ ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে জাহিদা ইসলাম বলেনÑআমরা এখন চেন্নাই এয়ারপোর্টে অবস্থান করছি। খুব তাড়াতাড়ি রওনা হবো। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছাবো। বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অভিনেতা আবদুল কাদের। চেন্নাইয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন এ অভিনেতা ক্যানসারে আক্রান্ত। জাহিদা ইসলাম বলেনÑবাবার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরও চিকিৎসকরা রোগ ধরতে পারছিলেন না। পরে সিটি স্ক্যান করানোর পর টিউমার ধরা পড়ে। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করাই।

এখানে আবারো চেকআপ করা হলে ১৫ ডিসেম্বর ডাক্তাররা বোর্ড মিটিং করে বলেন, বাবার ক্যানসার হয়েছে। ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এখন চতুর্থ স্টেজে রয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে জাহিদা ইসলাম বলেনÑএখানকার চিকিৎসকরা বাবাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিতে চেয়েছিলেন। আমরা না করেছি। কারণ আইসিইউতে নিলে তাকে দেশে নেওয়া যেত না। কয়েকদিন আগে রক্ত দেওয়ার পর বাবার শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়েছে। কিন্তু শরীর দুর্বল থাকায় বাবাকে কেমো দেওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা বাবাকে দেশে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন। বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর আবদুল কাদেরকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাহিদা ইসলাম। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে নাম লেখান আবদুল কাদের। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারে কয়েকশ’ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।

মন্তব্য করুন: