1. admin@dailyajkerkhabar.com : daily :
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া রাস্তার নাজেহাল অবস্থা!

সংবাদ দাতা :
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
  • ৩৬০ Time View
৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া রাস্তার নাজেহাল অবস্থা!

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৪৮.৫ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে কাজটি শুরু করে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও সেই কাজ শেষ হয়নি। ৪৮.৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৯.৭ কিলোমিটার বাকি রেখেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

সড়ক বিভাগ আগের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়ে ফেলে রাখা স্থানের জন্য আবারও দরপত্র আহ্বান করেছে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী- গত জানুয়ারিতে দরপত্র গ্রহণ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। যে কারণে কাজটি শুরু করা যায়নি। তবে অল্প দিনেই কাজটি শুরু করার আশা করছেন তারা।

এদিকে খালিশপুর-যাদবপুর ভায়া জিন্নানগর রাস্তার ফেলে রাখা ওই ২০ কিলোমিটারের কারণে এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তাটির অবস্থা এতোটাই খারাপ যে মানুষ হেঁটেও চলতে পারছে না। ওই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের চালকরাও ভয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজার থেকে মহেশপুর-দত্তনগর-জিন্নানগর হয়ে যাদবপুরের রাস্তাটি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই বছরই প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ওই রাস্তাটি মেরামতের জন্য একনেকে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এরপর তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে তিনটি প্যাকেজের কাজ পান যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। যার মধ্যে রয়েছে খালিশপুর থেকে সেজিয়া, সেজিয়া থেকে ভোলাডাঙ্গা ও ভোলাডাঙ্গা থেকে যাদবপর পর্যন্ত রাস্তা। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ কাজটি শুরু হয়ে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর শেষ করার কথা। ঠিকাদার সেভাবেই কাজ শুরু করেন। কিন্তু শেষ করতে পারেননি। প্রথম দফায় কিছুটা কাজ করে বন্ধ রাখা হয়। এরপর আবারও শুরু করলেও দত্তনগর থেকে জিন্নানগর আনুমানিক ১২ কিলোমিটার ও সামন্তা থেকে মমিনতলা পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা কাজ না করে ফেলে রাখা হয়।

ওই কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমির হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, যে দুইটি স্থানে তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন সেখানে শুধুমাত্র ভেঙে চুরে যাওয়া জায়গা মেরামত করে কার্পেটিং করার কথা। কিন্তু সড়কটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে ওই স্থানে কোনোভাবেই গর্ত ভরাট করে কার্পেটিং করলে থাকবে না। স্থানটি সম্পূর্ণ খুঁড়ে নতুন করে করতে হবে। যে কারণে তারা ওই দুইটি স্থানে কাজ করবেন না বলে সওজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি সওজ কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখে তারাও নতুন করে কাজ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দত্তনগর থেকে জিন্নানগর ও সামন্তা থেকে মমিনতলা পর্যন্ত রাস্তাটিতে বর্তমানে চলাচলের কোনো উপায় নেই। সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোনো ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে দু-একটি যানবাহন গেলেও প্রায়ই গর্তে আটকে থাকছে।

স্থানীয় সামন্তা বাজারের বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, একটু বর্ষা হলেই তারা এলাকা থেকে বের হতে পারছেন না। বিশেষ করে সামন্তা থেকে মমিনতলা পর্যন্ত রাস্তা এতোটাই খারাপ যে ওই পাঁচ কিলোমিটার কোনোভাবেই চলাচল করা যাচ্ছে না।

জিন্নানগর এলাকার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল আযীয জানান, মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর, বাশবাড়িয়া, নেপা, শ্যামকুড় ও স্বরুপপুর নামে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। দুইপাশে উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও মাঝের ফেলে রাখা স্থানের কারণে সকলকেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, তাদের এলাকার কৃষকরা মাঠে উৎপাদিত কৃষিপণ্যও বাজারে নিতে পারছেন না। ফলে অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও সঠিকভাবে কাজ না করায় সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার জানান, রাস্তাটি সার্ভের সময় যে অবস্থা ছিল পরবর্তীতে কাজ করার সময় আরও খারাপ হয়ে যায়। যে কারণে তারা নকশার পরিবর্তন করে আবারও টেন্ডার করিয়েছেন।

তিনি জানান, কুষ্টিয়া সার্কেল অফিস জানুয়ারি মাসের দিকে দরপত্র আহ্বান করে। আবিদ মনছুর নামে এক ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে এখনও কাগজপত্রের কিছু কাজ বাকি থাকায় কাজটি শুরু করা যায়নি। তবে অল্পদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© (কপিরাইট):  2010 | দৈনিক আজকের খবর কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
Theme Customized BY LatestNews